রিপন মালী, বরগুনাঃ বরগুনার নিজ বাড়ির পেছনের ঝোপ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মন্টু চন্দ্র দাস (৩৭)। তিনি বরগুনা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কালিবাড়ী এলাকার জয়েশ্বর চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি বরগুনা মুরগি বাজারে একটি দোকানে দীর্ঘ দিন কাজ করতেন।
বুধবার (১২ মার্চ) রাত সোয়া ১ টার দিকে বাড়ির পেছনের ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ গিয়ে সুরাতহাল শেষে প্রাথমিক ভাবে বিষয়টিকে হত্যাকান্ড বলেই জানিয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, রাত গভীর হওয়ার পরেও বাড়ি না ফিরলে খুঁজতে বের হয় স্বজনরা। এসময় বাড়ির পেছনের ঝোপের ভেতরে মোবাইলের রিংটোন শুনে খুঁজতে গেলে মন্টুর মরদেহ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশককে জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত কয়েকদিন আগে নিহত মন্টুর বড় মেয়ে স্থানীয় বখাটেদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের ঘটনায় বাদী হয়ে গত ৫ মার্চ বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করে মন্টু। একইদিন মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং পরবর্তীতে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর পর থেকেই মন্টু ও তার পরিবারকে নানানভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল অভিযুক্তরা। আজ ১২ মার্চ ওই মামলার তারিখ ছিলো।
নিহতের স্ত্রী শিখা রাণী দাস বলেন, “রাতে আমাকে কল দিয়ে জানায় আসতে দেরী হবে। পরে রাত গভীর হলেও বাসায় ফেরেনি। সময় প্রহর না কাটায় ফোনে কল দিতে থাকেন শিখা রাণী। ফোনে কল দিলে ঝোপের মধ্যে রিংটোন বাজতে শুনি। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
বরগুনা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, “মন্টুর সাথে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। ওর সাথে কারো কোনদিন তর্কও হয় নাই। ওর মত ভালো মানুষ উক্ত এলাকায় নেই। আমি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসি চাই।”
এবিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “খবর পেয়ে আমি এবং সদর সার্কেল স্যার ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিক সুরাতহালে বিষয়টি হত্যাকান্ড বলে মনে হয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে মন্টুকে হত্যা করা হয়েছে৷ আমরা বিষয়টা বিবেচনায় রেখেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”