ষ্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালীঃ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম অনুষ্ঠান রাস উৎসব। দু’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমা উৎসবে গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। আগামী রবিবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্পদায়ের এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আগামী সোমবার ঊষালগ্নে সমুদ্রস্নান শেষে সমাপ্তি ঘটবে রাস মেলা ও উৎসবের। ভক্তদের জাগতিক পাপ ও রোগমুক্তির আশায় সমুদ্রস্নান ও পূঁজা অর্চনা আর প্রতিমা দর্শনে লক্ষাধিক ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের সমাগম ঘটবে কুয়াকাটায়।
প্রতি বছর বাংলা বছরের কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে কুয়াকাটা রাধা কৃষ্ণ মন্দিরে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়। এবারের রাস উৎসবে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সমাগম ঘটবে বলে আশা আয়োজকদের। হোটেল-মোটেল, রেষ্ট হাউজ ও ডাকবাংলোগুলো প্রস্তুত রয়েছে এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কুয়াকাটার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট ঝাউ বাগান, রাখাইন পল্লী, লেম্বুর বন,গঙ্গামতী, কেরানীপাড়া বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন যাদুঘর, রাখাইন মার্কেট সহ বিভিন্ন স্পট গোছানো হয়েছে অপরুপ সাজে।
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারন সম্পাদক নিহার রঞ্জন মন্ডল বলেন, "মানবতা রক্ষায় দ্বাপর যুগে কংস রাজাকে বশ করে পূর্ণিমা তিথিতে ঘটে রাধা-কৃষ্ণের পরম প্রেম। সেই থেকেই মূলত রাস উৎসবের প্রচলন। সত্য ও সুন্দরের আকাঙ্ক্ষায় প্রায় ২০০ বছরের আগে থেকেই এ রাস পূজা ও রাস উৎসব উদযাপন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী রোববার রাতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে রাস পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ইতিমধ্যে রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে ১৭ জোড়া যুগল প্রতিমা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্যান্ডেল ও লাইটিংয়ের কাজ চলমান। আগামীকাল থেকেই পুণ্যার্থীরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করবেন।"
রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজল বরণ দাস জানান, "রবিবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে রাস পূজা ও রাস উৎসব। তিন দিন ব্যাপী চলবে পূজা অর্চনা আর পদাবলী কীর্তন। এবারের রাস পূজা ও রাশ উৎসবে থাকবে নকুল কুমার বিশ্বাসের একক ভক্তিমুলক সঙ্গীতানুষ্ঠান। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বভাবিক রাখতে প্রশাসনের সাথে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। রবিবার রাতভর পূঁজা শেষে সোমবার ভোরে পূর্ণার্থীরা সাগরে পূন্য স্নান করবেন। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লাখো পূন্যার্থীদের মিলনমেলায় রাস পূজা ও রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।"
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো.নূর কুতুবুল আলম জানান, "এবারের রাস উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কুয়াকাটায় পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের আগমনে সৈকত ও মন্দির প্রাঙ্গণে ও এর আশেপাশে র্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে টহল জোরদার করা হয়েছে। থাকছে ভ্রাম্যমাণ আদালত সহ চিকিৎসক ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।