এম. নিয়াজ মোর্শেদ, পটুয়াখালীঃ শরতের কাঁশফুল আর শিশিরভেজা ভোর জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসবের আগমনী বার্তা। আসছে ২০ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ উৎসব এবং চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। আর ২৪ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব। সারাদেশের ন্যায় পটুয়াখালী জেলায় চলছে ২০০ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি। দিন রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা কাঁদা-মাটি, বাঁশ আর খড় দিয়ে তিল তিল করে প্রতিমা তৈরী করছেন। মৃৎ শিল্পীদের ছোঁয়ায় অপরূপ সাজে সজ্জিত হচ্ছে দেবী দূর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ ও অসুর সহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। অপর দিকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকজন মন্দিরের সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন আর লাইটিং এর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেকরেশনের লোকজন। সব মিলিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ উৎসবকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পটুয়াখালী জেলার সভাপতি স্বপন ব্যানার্জী জানান, "পটুয়াখালী সদর সহ ৯ টি থানায় মোট ২০০ টি পূজা মন্ডপে এ বছর পূজা অনুষ্ঠিত হবে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে কম পূজা মন্ডপ রাঙ্গাবালীতে ৬টি, মহিপুরে ৮টি, দুমকীতে ১০টি, কলাপাড়ায় ১১টি, দশমিনায় ১৬টি, মির্জাগঞ্জে ২০টি, পটুয়াখালী সদরে ২৭টি, গলাচিপায় ২৯টি, ও সর্ব্বোচ্চ পূজা মন্ডপ বাউফলে ৭৩টি। এর মধ্যে ঘট পূজা হবে ৬৪ টি পূজা মন্ডপে এবং ২য় দিনেই বিসর্জন হবে ৫টি পূজা মন্ডপের প্রতিমা। বাকী পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হবে দশমীতে।"
তিনি আরও জানান, "এ বছর আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় গেলে তারা আমাদেরকে র্যাব, পুলিশ, আনসার সহ সাদা পোশাকে তাদের লোকজন সার্বক্ষণিকভাবে সকল পূজা মন্ডপ তদারকি করবেন বলে জানান। আমাদেরও কার্ডধারী ভলান্টিয়ার থাকবে প্রত্যেকটি পূজামন্ডপে। এ ছাড়াও প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপের নিজস্ব লোকজনও থাকবে। প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে থাকবে সার্বক্ষণিক সিসিটিভির ব্যবস্থা। পূজার ৫ দিন প্রশাসনের কড়া নজরদাড়িতে থাকবে প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপ।"