অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালীঃ একজোড়া সাদা জুতা—আর সেটিই হয়ে উঠলো দশমিনার অটোচালক মহিউদ্দিন ঈসা হত্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু! পুলিশের বুদ্ধিদীপ্ত তদন্তের ফলে অবশেষে গ্রেফতার হলো হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ তুহিন (২২)। ঢাকার কাফরুল এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মুঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ০২ টায় পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অটো নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন মহিউদ্দিন ঈসা (২০)। পরদিন সকালে দশমিনা উপজেলার চাঁদপুরা গ্রামে খড়কুটোর নিচে তার মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যার পর ইজিবাইক নিয়ে পালানোর সময় এক ব্যক্তির পায়ে ছিল সাদা রঙের জুতা। এই সাদা জুতা ধরে তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ। স্থানীয় এলাকায় এমন জুতার সন্ধান করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আসে ১৫ ফেব্রুয়ারি বরগুনার কালিকাবাড়ি থেকে মোঃ নাহিদ (১৪) নামে এক কিশোর।
জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ স্বীকার করে, পুরো হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো মোঃ তুহিন এবং ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই মহিউদ্দিনকে হত্যা করা হয়। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কাফরুল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তুহিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাংলা দা, মহিউদ্দিনের ইজিবাইক, তার রক্তমাখা জুতা এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ বলেন, “এটি ছিলো অত্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ ধৈর্য ধরে তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। অপরাধীরা যতই চতুর হোক, তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।”