সুনীল সরকার, পটুয়াখালীঃ মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান দীপাবলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী শ্মশান ঘাটে পালিত হয়েছে এই উৎসব। পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ‘পটুয়াখালী মহাশ্মশান ঘাটে’ প্রতি বছর ভূত চতুর্দশী পূর্ণ তিথিতি মহাশ্মশান দীপাবলির লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ছুটে আসেন প্রিয় পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থলে। প্রদীপ জ্বেলে প্রার্থনায় সরব হয়ে ওঠে শ্মশান ঘাট চত্বর। মা-বাবা কিংবা প্রিয় ব্যক্তি হারানো স্বজনরা কালি পূজোর আগের দিন শুভ লগ্নে ‘শ্মশান দীপাবলি উৎসবে’ মিলিত হয়। এ বছর ‘শ্মশান দীপাবলি উৎসবে’ আগত স্বজনদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরলোকে গমনকৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করা।
স্বজন স্বপন কর্মকার বলেন, আমার দিদাসহ অনেক স্বজন ও পূর্ব পুরুষ মারা-গেছেন। তাদের শান্তি কামনার জন্য শ্মশান দীপাবলি উৎসবে সামিল হয়েছি। এখানে বহু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এসেছেন মা কালির কাছে স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনার প্রার্থনার জন্য।
যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছাড়াও শশ্মানে অনেকেই দীপাবলির আয়োজন দেখতে আসেন। এদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও স্বজনদের সমাধিতে প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের জন্য স্বজনরা এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রায় ৫১ বছরের পুরনো এই মহাশ্মশানের অবস্থান। যেখানে আনুমানিক ৫ হাজারের মতো কাঁচা ও পাকা সমাধি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন শ্মশান কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা।
এদিকে মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা যারা দেশে থাকেননা সেসব মৃত ব্যক্তিদের সমাধিগুলোকে কমিটির পক্ষ থেকে আলাদা রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাধিগুলোতে শ্মশান কমিটির উদ্যোগে দীপাবলি উৎসবের দিন সন্ধ্যায় মোমবাতি, ধুপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।
আজ ধর্মীয় আচার বিধি মেনে মহাশ্মশানে “শ্মশান কালী” পূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামীকাল দিবাগত রাতে কালীপূজা (শ্যামা পূজা) অনুষ্ঠিত হবে।