জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদকঃ সলিসিটর (জিপি- পিপি) কর্তৃক পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীন জেলা জজ আদালতে সদ্য নিয়োগকৃত সরকারি কৌসুলী (জিপি) মো. আব্দুল্লাহ ইউসুফ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এ অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ১ নং মাকসুদুল হক, ২৫ নং মো. মামুন খানের নিয়োগ বাতিল করে তদস্থলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগের দাবীতে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত।
আজ ১৮ নভেম্বর সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা আইনজীবী সমিতির প্রধান গেটের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ মোঃ সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন, জেলা বার'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মঞ্জু মৃধা, ফোরামের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মো. মাকসুদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ এ্যাড. মাসুদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক এস এম তৌফিক হোসেন মুন্না প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সলিসিটর/জিপি-পিপি (পটুয়াখালী) ৬২/২০২৪ (অংশ-১)-১৮৯ নং স্মারকে ১৩.১১.২০২৪ তারিখ পটুয়াখালী জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিয়োগকৃত সরকারি কৌসুলী মো. আবদুল্লাহ ইউসুফ একজন নন প্রাকটিশনার এবং খন্ডকালীন সাবেক নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের ফ্যাসিস্ট সরকারের পিপি এ্যাড. নুরজামাল মৃধার জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছে। সে ফৌজদারী নন প্রাকটিশনার, পটুয়াখালী পৌরসভা ও জেলা পরিষদের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনকরে সুবিধা ভোগ করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কাজ করেছেন। মো. আব্দুল্লাহ ইউসুফ ব্যক্তি জীবনে একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে এন আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার আসামী ছিলেন, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান আছে। তিনি ১০.১১.২৪ ইং তারিখ সেসন মামলা নং-৩৪৬/২০২২, ৩৪৮/২০২২ নং মামলার বাদী আবদুস ছালামকে আদালত প্রাঙ্গনে মারধর করার অভিযোগে তার (আবদুল্লাহ ইউসুফ) বিরুদ্ধে ১১.১১.২৪ তারিখ একখানা দরখাস্ত দাখিল করেন। যা বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির ভিজিলেন্স কমিটিতে শো-কজ এর জবাব দাখিলের জন্য আছে। তিনি আওয়ামী লীগ এর পরিচয়ে বিগত ফ্যাসিষ্ট খুনি হাসিনা সরকারের আমলে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে বহু অনৈতিক সুবিধা নিতেন। তার কোনো চেম্বার বা মহরার নেই। তার নিয়োগে জেলা আইনজীবী সমিতির ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জেলা ও দায়রা জজ আদালত-এ ১নং ক্রমিকে মাকসুদুল হক আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি পটুয়াখালী আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্য নির্বাহী কমিটির ১৩নং সদস্য। তিনি আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একজন সক্রীয় সদস্য।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এর ২৫নং ক্রমিকে মোঃ মামুন খান গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন।
বক্তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও এর অধীন আদালত সমূহে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার দোসরদের নিয়োগ বাতিল করে বিচারিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ, অভিজ্ঞ ও গ্রহনযোগ্য আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবী করেন। জেলা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে ফ্যাসিস্ট রেমিজ খুনি হাসিনার দোসরদের নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুশিয়ার করেন বক্তারা।