স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাদশা বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেতে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বয়োবৃদ্ধ বিধবা নারী মিনারা বেগম।
গতকাল সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিনারা বেগম। এসময় তার দুই পুত্র সন্তান সুমন মৃধা ও সোহাগ মৃধা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর এলাকার সন্ত্রাসী বাদশা মৃধা ও শামিম মৃধা ১নং মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলু গাজীর শ্যালক ও ভায়রা ভাই। তারা আমাদের জমি জমা জবর দখল করতে দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করে আসছে। আমাদের উপর নিয়মিত হামলা মামলা করে আমাদের এলাকা ছাড়া করছে।
আমরা এবিষয়ে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের স্বরনাপন্ন হয়েও কোন সুরাহা পাইনি। বরং সরল মনে তাদের কাছে গিয়ে, আরও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। চেয়ারম্যান লাবলু আমাদের সামনে এক কথা বলে, গোপনে তার শ্যালক বাদশা ও ভায়রা শামিমকে আরেক কথা বলে আমাদের জীবননাশের ছক কষিয়ে দেয়।
সুমন মৃধা বলেন, গত ১২ জানুয়ারী দিবাগত মধ্য রাতে অনুমানিক ০২.০০ ঘটিকার দিকে চেয়ারম্যানের ভায়রা এবং শ্যালক সহ ৫০-৬০ জন গুণ্ডাপান্ডা নিয়ে আমার ঘরের ভিটি বাঁধানো জায়গায় ও চারদিকে গাছ লাগানো ছিল ঐ জয়গায় এক্সাভেটর (বেকু) দিয়ে মাটি কেটে সীমানা আইল তৈরী করে। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে চেয়াম্যান লাভলু কাজীকে ফোন দিয়ে কথা হয়। কিন্তু কোন ধরনের সাহায্য পাইনি। কোন প্রকার উপায় না পেয়ে ৯৯৯ কল দিয়ে সহযোগীতা চাই। তারা মির্জাগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিলে মির্জাগঞ্জ থানা কাঠালতলী ফাঁড়িকে আদেশ দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যানের কথা শুনে কাঠালতলী ফারির পুলিশ সময়মত ঘটনা স্থলে আসেনি। আমরা স্থানীয় গণ্যমান্য ও প্রশাসনের সহযোগীতা না পেয়ে পরের দিন সকালে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর মিনারা বেগম বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মহোদয় আমাদের অসহায়ত্ব দেখে মির্জাগঞ্জ থানাকে যথার্থ ব্যবস্থা নিতে বলে দেয়। মির্জাগঞ্জ থানা কাঠালতলী ফাঁড়ির কর্তব্যরত পুলিশ জাকির হোসেনকে নির্দেশ দেয়। চেয়ারম্যানের শ্যালক ও ভায়রা এ খবর শুনতে পেয়ে আমাকে ও আমার বড় ভাইকে হুমকি ধামকি ও আমার মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কাঠালতলী ফাঁড়ির পুলিশ আমাদেরকে নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যায় ও সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা করে। বৈঠকে চেয়ারম্যান ও পুলিশ নির্দেশ দেয় যে, উক্ত যায়গায় সালিশ বিচার এর ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত স্বস্ব পক্ষকে ঐ জায়গায় না যাওয়া ও কোন ধরনের অবকাঠামো তৈরি না করার আদেশ দেয়। এ আদেশ অবমাননা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু শামিম মৃধা ০২ দিন পর উক্ত স্থানে আনুমানিক রাত ০৩ টার সময় একটি একচালা টিনের ঘর নির্মান করে। আমরা উক্ত সময় খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ও সালিশগণদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাৎক্ষনিক আমি পুলিশ জাকির স্যারকে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হই। পরবর্তীতে আমি ও আমার মা চেয়ারম্যানের কাছে গেলে সে আমাকে ও আমার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
পরে আমি ঐ দিন সন্ধ্যায় মামলা করার জন্য মির্জাগঞ্জ থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে আমার কাছে মির্জগঞ্জ থানার এস. আই আক্তার স্যার আমাকে কল দিয়ে বলে আপনি কি সুমন মৃধা, আমি হ্যাঁ বললে আমাকে সে বলে আপনার নামে একটি লিখিত অভিযোগ আছে। এস. আই আক্তার স্যার ও চেয়ারম্যান ১নং মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদে বসে আমাদের উভয়ের কথা শুনে সালিশ মনোনীত করে যায়। আর বলে যায় উক্ত স্থানটি নিয়ে আর যেন কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা না হয় এই আদেশ দিয়ে যায়।
কিন্তু ২৮-০১-২০২৪ ইং তারিখ রাত্র অনুমানিক ২.৩০ ঘটিকায় চেয়ারম্যানের ভায়রা শামিম মৃধা তার দলবল নিয়ে উক্ত এক চালা টিনের ঘরটিতে আগুন দেয়। আমি উক্ত বিষয়টি টের পেয়ে সাথে সাথে চেয়ারম্যানকে ফোন দেই কিন্তু তার ফোন বন্ধ করে রাখে। পরে আমি চেয়ারম্যানের মনোনীত সালিশ আঃ সালাম সিকদারকে ফোন করে উক্ত ঘটনাটি জানাই। পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে আমি আবারও ৯৯৯ এ কল দেই ও এস.আই আক্তার স্যারকে সাথে সাথে বিয়টা জানাই। মির্জাগঞ্জ থানা থেকে কাঠালতলী ফাঁড়ির ডিউটিরত পুলিশ এ.এস.আই হিরন স্যারকে নির্দেশ দেয় ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য। এ.এস.আই হিরন স্যার তার সহকারীদেরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে ও আগুন নিভিয়ে চলে যায় এবং আমাকে পরের দিন সকাল ১০টায় ফাঁড়িতে যাওয়ার জন্য বলে যায়। তাদের যাওয়ার পরে শামিম মৃধা ও তাদের দলবল আমাকে ও আমার মাকে ধরে বেধে ফেলে ও ২৪ ঘন্টা সময় বেধে দেয় এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য। যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে না যাই তা হলে আমার ও আমার পরিবারের লাশও এই দুনিয়ার কেউ খুজে পাবে না বলে হুমকি দেয় এবং এও বলে যে, আমাদেরকে ঘর পোড়ানোর মামলা দিয়ে জেল খাটাবে। আমরা এই ভয়ে পালিয়ে বেড়ালে ৩০-০১-২০২৪ ইং তারিখে বাকেরগঞ্জ সহকারী ভূমি অফিসের মূল ফটকের সামনে চেয়ারম্যান লাভলু গাজীর লোকজন আমাকে দেখতে পেয়ে ধরে আটকে রেখে চেয়ারম্যানকে কল দিলে চেয়ারম্যান আমাকে মারধর করার জন্য তাদেরকে আদেশ দেয়। তারা আদেশ পেয়ে আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে আমার পুরুষাঙ্গ ও অন্ডকোষে লাথি মারে। আমি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন আমাকে ধরে বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কম্পেক্স এ ভর্তি করে সেখান থেকে আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-ই-বাংলা হসপিটালে রেফার করেন। আমি চিকিৎসা নিয়ে সালিশের জন্য আসলে সালিশিরা আমাদেরকে রুম থেকে বের করে দিয়ে এক তর্ফা সালিশ বিচার করে। আমার কোন কাগজপত্র দেখে না। আমি উক্ত শালিসের বিরুদ্ধে কথা বললে চেয়ারম্যান আমাকে ও আমার ভাইকে হুমকি প্রদান করে বলে এই শালিস না মানলে তোরা পোড়াবি ঠিক ঠাক মত। এই কথা বলে চেয়ারম্যান সরেজমিনে গিয়েনবসে থেকে সীমানা নির্ধারন করে নেয়। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের জীবন সংকটাপন্ন। সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের বিচার, বসত ভিটা রক্ষা ও নিজেদের সুরক্ষরা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চেয়েছেন মিনারা বেগম।
এবিষয়ে ১নং মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলু গাজী বলেন, “সুমনদের জমি-জমা নিয়ে কয়েকবার বিচার শালিস হয়েছে। শালিসের ১/২ দিন পরই তারা রায় মানেননা। আবারও দ্বন্দ্ব করে। যাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তারা ক্রয় সূত্রে মালিক। সুমন ও সোহাগ ক্রয় সূত্রে মালিক বাদশাকে জমি দখলে যেতে দিচ্ছে না। সর্বশেষ শালিস রোয়েদাদ অনুযায়ী বাদশা মানলেও, সুমন সোহাগ মানছে না। এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে আমার প্রতিপক্ষের কুপরামর্শে সুমনের পরিবার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, “মিনারা বেগম ও সুমনের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকবার শালিস হয়েছে। তাদের রোয়েদাদ আমি দেখেছি। এরপর আর কোন বিষয় আমি জানিনা। তবে গতকাল তারা সংবাদ সম্মেলন করেছে, সেটিও আমি দেখেছি। আমরা অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”