মোঃ মেহেদী হাসান (বাচ্চু), পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানাধীন টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া এলাকায় সংঘটিত আলোচিত অপহরণ মামলার ভিকটিম গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রবিউল আউয়াল (অন্তর) কে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ১১.০০ ঘটিকা থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ০০.৩৪ ঘটিকার মধ্যে কোনো এক সময় মোঃ রবিউল আউয়াল (অন্তর) কে সশস্ত্র অপরাধীরা কলাপাড়া থানার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশ থেকে অপহরণ করে। ঘটনাস্থলে অন্তরের ব্যবহৃত হেলমেট এবং মোটরসাইকেল (রেজিঃ নম্বর পটুয়াখালী-ল-১১-৪৭৯৫) পাওয়া যায়। ভিকটিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালায়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ ভোর ৬.৩০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদ নবীনগর এলাকার নুর হোসেন ওরফে বাবুলের বাসা থেকে অন্তরকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অন্তর জানায়, ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কলাপাড়া পৌরসভার মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ড’ বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে একদল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সাদা মাইক্রোবাসযোগে এসে তার মোটরসাইকেল চাপা দেয় এবং তাকে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। পরে তারা জোরপূর্বক তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মাওয়া এলাকায় ফেলে যায়। সেখান থেকে অন্তর নিজে বাসযোগে ঢাকায় তার বন্ধু মোঃ আল-আমিনের কাছে চলে যায়। আল-আমিন তাকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার বন্ধু মোঃ আনাছ আহম্মেদ ও মোঃ আসাদের বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে।
এদিকে ভিকটিমের ভাই মোঃ তুষার আল-মামুন (২৬) কলাপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মামলা নং-১২, তারিখঃ ৭-২-২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-৩৬৪/৩৪ পেনাল কোড অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশ অন্তরকে উদ্ধারের সময় মোঃ আনাছ আহম্মেদ (২৬) ও মোঃ আসাদ (২২) জানান, তারা কামরাঙ্গীরচরের নবীনগর এলাকার নুর হোসেন ওরফে বাবুলের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মোঃ আল-আমিন তার বন্ধু অন্তরের পারিবারিক সমস্যার কথা বলে তাকে কিছুদিন থাকার অনুমতি নেয়। তারা সরল বিশ্বাসে অন্তরকে থাকতে দেয় এবং বাহির থেকে খাবার এনে দিতো।
এ সময় তারা আরও জানান, অন্তর বলেছিল যে তার এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আন্দোলন চলছে এবং এই আন্দোলন সফল হলে সে বাসায় ফিরে যাবে। ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে পুলিশ তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তরসহ সবাইকে পটুয়াখালী থানায় নিয়ে আসে।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উক্ত ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এই অপহরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।