জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদকঃ পটুয়াখালীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কর্তৃক আউলিয়াপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তাবিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মো. মহিউদ্দিন রানা চৌকিদার ও তার বৃদ্ধ পিতা আঃ ছালাম চৌকিদারের উপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন।
আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আহতদের পরিবারবর্গের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন গুরতর আহত মহিউদ্দিন রানা চৌকিদারের বড় ভাই কাওসার আহমেদ সোহেল চৌকিদার।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২২ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ২ ঘটিকার সময় আমার বৃদ্ধ পিতা আব্দুস সালাম চৌকিদার ও আমার ছোট ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক মো. মহিউদ্দিন রানা চৌকিদার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের অফিসের হাটে যাওয়ার পথে রাস্তার উপরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার এবং অত্র ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক চৌকিদার(৫৪) ও তার ছোট দুই ভাই জহিরুল চৌকিদার(৩৫), বড় ভাই মো. নুহ চৌকিদার(৫৮) এবং আর্শ্বেদ আলী চৌকিদারের দুই ছেলে মোজাম্মেল হক মজু(৪৫) ও মো. খবির চৌকিদার(৩৮) সহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন সন্ত্রাসী রামদা, দাঁ, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার বৃদ্ধ পিতা ও ছোট ভাইকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত আমার পিতা আঃ সালাম চৌকিদার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন। ছোট ভাই মহিউদ্দিন রানা চৌকিদার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জারত আছেন। ডাক্তার বলেছে তার অবস্থা ভাল না।
সংবাদ সম্মেলনে কাওসার আহমেদ সোহেল আরও বলেন, ফারুক চৌকিদারগং স্থানীয়ভাবে খুব প্রভাবশালী হওয়ায় তারা গায়ের জোর খাটিয়ে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে জোড়পূর্বক জমি-জমা দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এলাকার লোকজন তাদের ভয়ে প্রতিবাদতো দূরের কথা কোন কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তাদের সাথে আমাদের জমি জমা নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছে।
কাওসার আহমেদ বলেন, ২০১৫ সালে ফারুক চৌকিদারের ছোট ভাই জহিরুল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের ভয়ে মামলা মকদ্দমা করতে পারি নাই, ঠিকমত চিকিৎসাও করতে দেয়নি। সন্ত্রাসী মোজাম্মেল হক মুজু মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিল। ২২.১০.২০২৪ ইং তারিখ আমার বাবা ও ছোট ভাইকে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যা রাতে আমি বাদি হয়ে উক্ত ৫ সন্ত্রাসীদেরকে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা রুজু করি। মামলা নং- ৩১। এ মামলার প্রধান আসামী জহিরুল চৌকিদারকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলখানায় প্রেরন করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য আসামীরা মামলা তুলে নিতে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকেসহ সাক্ষীদেরকে বিভিন্নভাবে খুন, জখম করার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাসেল জানান, ১নং আসামী জহিরুল চৌকিদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাওসার আহমেদ সোহেলের মা জাহানারা বেগম, চাচা মো. ইউনুচ চৌকিদার, ফুফাতো ভাই হুমায়ুন, খালু মোনাসেফ মৃধা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসারত মহিউদ্দিন রানা চৌকিদারের স্ত্রী বৈশাখী বেগম ও ১০ মাসের শিশু সন্তান আয়মান সাদিকসহ অন্যান্য স্বজনরা।