সাউথ বিডি নিউজ ২৪ ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত থাকায় সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আজ শুক্রবার সকালে বিআইডব্লিউটি এর চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, "সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৭ ও ৬ নম্বর বিপদসংকেত জারির পরে আমরা সারাদেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষনা করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।"
এদিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ মোংলা ও পায়রা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আর মিধিলির অগ্রভাগ আজ দুপুর নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে বলা হয়েছে।
পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ঘূর্নিঝড়টি শুক্রবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯৫ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৭০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা নাগাদ মোংলা-পায়রা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের ওপর দিয়ে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কেন্দ্রের ৫৪ কিমি এর মধ্যে বাতাসের ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগ ৬২ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।