মো. রিয়াজুল ইসলাম, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর দুমকীতে মা ও ছোট ভাইয়ের করা হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বড় ছেলে মো. সেলিম সিকদার (৫৭)। এতে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় দুমকী প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়াম কক্ষে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আঃ বারেক সিকদারের বড় ছেলে সেলিম সিকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “১৯৯৮ সালে আমি বিদেশ গিয়ে মা-বাবা ও ভাই-বোনদের লেখা পড়াসহ সকল ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব পালন করি। এমনকি ২০০৯ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর পুরো পরিবারের হাল ধরি। কিন্তু জমি জমা ক্রয়-বিক্রয়, এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ, ছোট ভাই সুমন সিকদারের মাদক মামলায় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্নসহ বিভিন্ন কারনে ভাইদের সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ, এ বছরের ২১ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিআরডিবি’র কর্মকর্তারা মাদ্রাসা ব্রিজে আমার দোকানে এসে ছোট ভাই মো. সুমন সিকদার (৩৫) ও আশিকুর রহমান ওরফে রুমন সিকদারের (৩০) করা ঋণের টাকা পরিশোধ করে না বলে আমাকে জানায় এবং ওই ঋণের জামিনদার হিসেবে আমাকে টাকা আদায় বা পরিশোধ করতে বলেন। কিন্তু আমি ঋণ গ্রহিতা (সুমন ও রুমন) এর কাছ থেকে বিআরডিবি’র কর্মকর্তাদের টাকা আদায় করে নিতে বলি। এ কথা শুনে পাশে থাকা সুমন ও রুমন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপরে হামলা করে এবং পরে আমার ছেলে নূর আলম সিকদার (২৮) ও স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪৮)- কেও হামলা চালিয়ে আহত করে। এ বিষয়ে আমি দুমকী থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মূলত এ মামলা আড়াল করতে আমার মা মোসা. সমের্তবানকে (৭১) কুপরামর্শ দিয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মা’কে মারধর ও ভাইকে মারধরসহ নানা অভিযোগে আদালতে ২ টি মামলা দায়ের করেছেন ছোট ভাই রুমন ও আমার মা সমের্তবান।”
এদিকে সেলিম সিকদারের মা সমের্তবান সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আর বলতে চাই না। আমি যদি কান্না শুরু করি আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “শুধু গালাগালিতে কোন মা আদালতে যায়? আর বলা লাগে?”
এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ বশির উদ্দিন জানান, “মা’কে মারধরের অভিযোগ সত্য কিনা তা আমি জানি না। তবে এর আগে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে একাধিক বার তাদের মধ্যে সালিশ বৈঠক হয়েছে।”