মো. রিয়াজুল ইসলাম, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর দুমকীতে সত্তরোর্ধ মা মোসা. সমের্তবান এর দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে আদালতে বড় ছেলে সেলিম সিকদার জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে সেলিম সিকদার কারাগারে প্রেরণ মুহুর্তে আদালত প্রাঙ্গনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার জামিন মঞ্জুর হয়।
সোমবার(৪ ডিসেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী আমলী আদালত চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলী প্রথমে জামিন নামঞ্জুর করেন। কিন্তু আসামি সেলিম সিকদারের অসুস্থতার জন্য পরে জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ(৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে। এ সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী আল আমিন এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী এস. এম. কামাল হোসেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম সিকদারের বড় ছেলে নূর-ই-আলম সাউথ বিডি নিউজ ২৪ কে বলেন, এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। নিজ মায়ের এমন মামলায় আমার বাবা মানসিকভাবে দুঃখ ও কষ্টে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন।
তার দাদীর সাথে বাবার সম্পর্কের অবনতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত আমার ছোট কাকারা আমার বাবাকে মারধর করলে দুমকী থানায় একটি মামলা হয় এবং তারা জেল খাটে। ওই মামলা থেকে বাঁচতে তারা দাদীকে দিয়ে এ কাউন্টার মামলা করিয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আঃ বারেক সিকদারের স্ত্রী সমের্তবান এক সময় বড় ছেলে সেলিম সিকদারের নতুন বাড়িতে থাকতেন। জমিজমাকে কেন্দ্র মায়ের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করলে পুরান বাড়িতে ছোট ছেলেদের কাছে চলে যান তিনি। সর্বশেষ এ বছরের ২১ নভেম্বর বেলা ১২ টার দিকে তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও ছেলে নূরে আলম সিকদারসহ এক দল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী পুরান বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি ও তাঁর ছোট ছেলে রুমন আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় গত ২৯ নভেম্বর মা মোসা. সমের্তবান বাদী হয়ে চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। শনিবার(২ নভেম্বর) ছেলে ও মা উভয়ই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করলে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।