মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল, গলাচিপা, পটুয়াখালীঃ “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য,” প্রচলিত প্রবাদটি বই পুস্তকে থাকলেও আজ তা জীবন্ত বা বাস্তবতায় রুপ নেয়ায় স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন মানবসেবক পল্লী চিকিসক কিশোর কুমার। পেয়েছেন সম্মাননা পুরস্কার।
পটুয়াখালীর গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামের কার্তিক চন্দ্র শীল এর গর্বিত গ্রীন স্টার মানবিক পল্লী চিকিৎসক কিশোর কুমার। গলাচিপা উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে তার নিজ গ্রামকেন্দ্রিক স্থানে নিম্ন আয়ের জনসাধারণ এর জন্য গড়ে তুলেছেন এ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা সেবা, বৃদ্ধদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উর্ধ্বতন এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারদের সহযোগীতা ও পরামর্শে এস এম সি (এ সি টি বি) রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে সরকারের নির্দেশনায় বিনামূল্যে যক্ষা আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রাদানেও রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। তার এ মানবসেবার জন্য স্থানীয়দের কাছে হয়েছেন আশির্বাদ। অসহায়, হতদরিদ্রসহ সুশীল সমাজে পরিচিত হয়ে উঠেছেন মানবিক পল্লী চিকিৎসক কিশোর কুমার হিসেবে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ছোটবেলা থেকেই স্থানীয়দের কাছে প্রিয় কিশোর হয়ে উঠেছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি গল্প-কবিতা লেখার অভ্যাস থাকলেও, পারিবারিক টানাপোড়নে লেখালেখিটা আর বেশিদূর গড়াতে না পারলেও মানবিক সেবায় এগিয়েছেন অনেক দূর। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৮ থেকে ১৯ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম আর জনসাধারণের ভালোবাসায় সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানি (এসএমসি) থেকে ২০২১ সালে রিকোজিশন বেষ্ট পারফর্মার এ পটুয়াখালী জেলায় স্বাস্থ্য সেবায় প্রথম স্থান অধিকার করে পেয়েছেন গুণীজন সম্মাননা। স্থানীয়দের কাছ থেকে কিশোর কুমার এর অত্মজীবনী শুনে তার খোজে আটখালী বাজারে তার নির্দিষ্ট ছোট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে না পেয়ে, ছুটে গেলাম তার নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত (এস এম সি) ব্লু- (এস এ টি বি) সেন্টারে। দেখলাম নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বিভিন্ন প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। স্বল্প সময়ে কথা হলো জনপ্রিয় পল্লী চিকিৎসক কিশোর কুমার এর সাথে। তিনি বলেন, “আসলে মানুষ হয়ে একজন মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়াইতো প্রকৃত মানুষের কাজ। দেশের অধিকাংশ জনসাধারণ একটু অসচেতন, নিজের বা পরিবারের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সরকারের অনেক ভূমিকা এবং সহযোগীতা রয়েছে। আমি সামান্য গ্রামের ডাক্তার মাত্র। সরকারের সেবাগুলোর বিষয়ে জনসচেতনতা আমার খুদ্র চেষ্টা বা প্রচেষ্টা মাত্র। আমি জানিনা তার কতটুক সেবা বা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পেরেছি, তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জানিনা কতটুকু সফল হতে পারবো। তবে, স্থানীয়দের ভালোবাসায় বেশ সাড়া পাচ্ছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ মেজবাহ উদ্দিন স্যার এর পরামর্শে এগিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি, জনসাধারণও স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠছেন। এছাড়া, আমারতো চাওয়া বা পাওয়ার কিছুই নেই! ইশ্বর যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, যেমন যেভাবে আছি তেমনই মানুষের ভালোবাসা নিয়ে থাকতে চাই।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “স্বাস্থ্য সেবায় দেশের ডাক্তারদের ভূমিকা অকল্পনীয়। পাশাপাশি, কিশোর কুমার এর মত সমাজসেবক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পল্লী চিকিৎসকবৃন্দদেরও অবদান রয়েছে। সরকারের নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সেবায় তিনি স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি (এস এ টি ভি) ব্রাক সংস্থার প্রজেক্ট এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়ে যক্ষা রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। এছাড়া নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বিভিন্ন রোগের পাশাপাশি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষা রোগীদের বিনামূল্যে সেবা নিশ্চিত রয়েছে। সমাজসেবক কিশোর কুমার এর মতো সকলে মানবিক সেবায় এগিয়ে আসলেই স্বাস্থ্যগত জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।”