জালাল আহমেদ, প্রধান প্রতিবেদকঃ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত স্ত্রীকে বাঁচাতে ভিক্ষায় নেমেছে দিনমজুর স্বামী বেল্লাল মুন্সি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে চরলক্ষ্মী গ্রামের বেল্লাল মুন্সী নদী ভাঙ্গনে ভিটামাটি হারিয়ে বেড়িবাঁধের সরকারি জায়গায় কোন রকমে ঘর তুলে দিন মজুরী করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলো। বিধিবাম,২০২৩ সালের প্রথম দিকে স্ত্রী মোসাঃ ডলি বেগম (৪০) ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়। তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুূদিন চিকিৎসার পর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে ঢাকাস্থ মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবেষনা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে ডলি বেগমকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকগন। স্বামী বেল্লাল মুন্সি জানান, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে তার স্ত্রীকে বিভিন্ন চিকিৎসার পাশাপাশি ৪০ বার রেডিও থেরাপী ও ৪ বার কেমোথেরাপী করা হয়েছে। ডাক্তার বলছে আরও ৬ বার কেমোথেরাপী দিতে হবে। দিনমজুর বেল্লাল মুন্সি জানান, তার স্ত্রীর চিকিৎসায় আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকা ঘরের টিন বিক্রিসহ আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধারকর্জ ও সাহায্য চেয়ে করা হয়েছে। স্ত্রী’র চিকিৎসার টাকা সংগ্রহের জন্য এখন মহাখালী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পথচারী মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য চাচ্ছি। এতে যা পাই তা দিয়ে টুকটাক ঔষধ পত্র কিনি এবং বিভিন্ন টেস্ট করাই। ডাক্তার স্যারেরা বলছে আরও কমপক্ষে ৬ বার কেমোথেরাপী করতে হবে। এতে আনুমানিক আরও ৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। ভিক্ষা করে করে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য এতো টাকা কিভাবে যোগার করব এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বামী বেল্লাল হোসেন মুন্সী। তিনি তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সমাজের টাকাওয়ালা লোকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন। বেল্লাল মুন্সির মোবাইল নম্বর-০১৭৭০৫৭৯৩৬৭। শুক্রবার দুপুরে বেল্লাল মুন্সির সাথে তার মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান, ৪০ বার রেডিও থেরাপী ও ৪ বার কেমোথেরাপীর পর বৃহষ্পতির ১৫ দিনের জন্য ছুটি দিয়েছে ডাক্তার স্যারেরা। তাই ঢাকা সদরঘাটে লঞ্চে ওঠেছি। আল্লাহর ইচ্ছায় শনিবার সকালে ঘাটে (রাঙ্গাবালী) পৌছবো।