কয়েকদিন পর্যন্ত শরীর, মন কোনোটাই ভাল যাচ্ছিলো না।কেমন যেনো পাগল পাগল লাগছিলো। হঠাৎ করে মনে হলো কোথাও ঘুরে আসি। ভাবনা-চিন্তা না করেই ট্রেনের টিকেট কেটে কন্যাকুমারীর ট্রেনে উঠে বসলাম। হোটেলে পৌছে দেখি রাত ১০ টা। মাথায়ই ছিলো না, সকাল থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। এত রাতে বাইরে যেয়ে খাওয়া সম্ভব না।কিন্তু ঘুম হল না। ভোর ৫:৫৫মি:, হঠাৎ করে মিউজিক বেজে উঠল। দরজা খুলতেই গরম চা হাতে হোটেল বয় বললেন, "বেলকনিতে যাও, সূর্যোদয় এর সময় হয়ে আসছে।" চারদিকের অন্ধকার তখনো কাটেনি। দূরে গীর্জা থেকে প্রার্থনা ভেসে আসছে, পাশে মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, সমুদ্রের গর্জন আর ঝিরঝিরে হালকা ঠান্ডা বাতাস - নিমিষেই সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। আস্তে আস্তে পুবের আকাশ লাল করে সূর্যোদয় হতে শুরু করল। জীবনে প্রথমবার সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য হল, তাও কন্যাকুমারীতে। সমুদ্রের মধ্যখানে একটি ছোট্ট পাহাড়ের উপর বিবেকানন্দ রক। বড় বোটে করে যেতে হয়। এটা হিন্দুদের পূন্যস্থান। তবে আমার ভাল লেগেছে সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনটি সাগর (ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর) এর মহা মিলন উপভোগ করার। তিনটি সাগরের পানি পাশাপাশি প্রবাহিত হয় অথচ আলাদা রঙ নিয়ে। চারদিকে সমুদ্রের প্রচন্ড গর্জন-সে এক অন্য রকম অনুভুতি। ফেরার পথে মনে হল পথের পাশের পাহাড়গুলো হাতছানি দিয়ে ডাকছে,আর একটু থেকে যাও। আমার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট, যন্ত্রনা বিসর্জন দিলাম কন্যাকুমারীর জলে। অনেক দিন পরে আমাকে একটু শান্তি দিয়েছে কন্যাকুমারী।
লুৎফুন্নেছা লুৎফা, প্রধান শিক্ষিকা, ডোনাভান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পটুয়াখালী সদর, পটুয়াখালী।